Search This Blog

Showing posts with label MZI. Show all posts

জন ডারউইনের   'Survival for the fittest' অর্থাৎ বাঁচার অধিকার যোগ্যতম এর। বাস্তব জীবন ছাড়াও এর জলজ্যান্ত উদাহরণ পাওয়া যায় হলিউডের Sa...



জন ডারউইনের 'Survival for the fittest' অর্থাৎ বাঁচার অধিকার যোগ্যতম এর। বাস্তব জীবন ছাড়াও এর জলজ্যান্ত উদাহরণ পাওয়া যায় হলিউডের Saw মুভি সিরিজের মধ্যে যেখানে প্রতিকূল পরিবেশে যে টিকে থাকতে পারে সেই বাঁচতে পারে।

Saw মুভির জন ক্রেমারের মত একজন মানুষ ক্রিভন, যে কিনা পৃথিবীর ধ্বংসপ্রায় সভ্যতার এক খলনায়ক। পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ ধরে এনে তাদেরকে নিয়ে ব্যবসা করাই ক্রিভনের কাজ। কখনোবা খেলোয়াড় হিসেবে কখনোবা বিশেষজ্ঞ হিসেবে অথবা শুধুই অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যোগান হিসেবে সে মানুষকে দেখে। এমনই দুইজন সাধারণ খেলোয়াড় রুহান ও রিদি; রুহান রুহান গল্পের মূল  দুই নায়ক।

গল্পের মূল পটভূমি শুরু হয় যুদ্ধের ময়দানে, যেখানে রুহান আর রিদি কে মারামারি করে যেকোনো একজনকে মেরে ফেলতে হবে। কিন্তু রুহান যুদ্ধ করার বদলে রিদির দিকে শুধু বন্ধুত্বের হাতই বাড়িয়ে দেয় না বরং দুই জনে মিলে ক্রিভনকে ও ধরে নিয়ে আসে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই সায়েন্স ফিকশনের আড়ালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চেয়েছেন যেমন; 


✧ বই পড়ার বিকল্প নেই। জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়তেই হবে। 
✧ সদিচ্ছা আর ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে ভালোর পথে আনা সম্ভব।
✧ ভালবাসার ক্ষমতা অস্ত্রের ক্ষমতার চেয়ে বড়।


    গল্পের টার্নিং পয়েন্ট বোধহয় এটাই যে একজন অনুভূতিশূণ্য, বোধশক্তিহীন রোবট ক্রানাকে ভালোবাসার মানে বোঝানো। প্রিয় উক্তি,


    "কেউ যখন ভালোবাসার কথা বলে তখন তাকে হত্যা করা যায় না" 

    ----------o----------





    কৌতূহলের দিক দিয়ে মানুষের জুড়ি মেলা ভার। নতুনকে জানার নেশা মানুষকে দিনে দিনে সৃষ্টির নিষ্ঠূর  ও স্বার্থান্বেষী জীব হিসেবেও অগ্রাধিকার দিয়েছে...



    কৌতূহলের দিক দিয়ে মানুষের জুড়ি মেলা ভার। নতুনকে জানার নেশা মানুষকে দিনে দিনে সৃষ্টির নিষ্ঠূর  ও স্বার্থান্বেষী জীব হিসেবেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। সায়েন্স ফিকশন হলেও সেরিনা কে অসহায়ের প্রতি স্বার্থান্ধ মানুষের নিষ্ঠূরতার প্রতিকী রচনা হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

    গ্রিক উপাখ্যানে মৎস্য কন্যার নাম সাইরেন-সাইরেন থেকে সেরিনা। গল্পের মূল চরিত্রের এমন নামকরণ তার ত্বকের মাধ্যমে পানির নিচে শ্বাস নিতে পারার বিশেষ ক্ষমতার পরিচায়ক। ডাক্তার শামীম একসময় শিশু সেরিনার এ বিশেষ গুণ লক্ষ্য করে সেরিনাকে উদ্ধার করেছিলেন এবং তার মেয়ের মত বড় করে তুলছিলেন। কিন্তু সেরিনার এই ক্ষমতা একসময় একদল বিদেশী বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কারণ হয়ে দাড়ায় এবং সেরিনার উপর গবেষণা করার জন্য তাকে তুলে নিয়ে যায়। সেরিনাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রক্তে থাকা ট্র্যাকারের জন্য সেরিনাকে সারাজীবনের জন্য সাগরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

    আপাতদৃষ্টিতে সেরিনা জাফর ইকবালের আরেকটি সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এর ট্রাজিক সমাপ্তির জন্য একে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া যায়। ছোট ছোট বাক্যে লেখক সমাজের অনেক অসঙ্গতির দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। যেমন-

    ''--বাচ্চাকে পানিতে ফেলেছে কেন?
    --কেন পানিতে ফেলেছে আপনি বুঝেন নাই? বার্লি খেয়ে বড় হয়েছেন?"

    অথবা,
     "গুলি মারি আমি হিপোক্রিটাসকে! ঘেন্না হয় আমার কেন
    আবর্জনা ঘাটতে হবে? নর্দমার আবর্জনা কেন তুলে এনেছেন? এইখানে
    সত্যিকারের মা বাবার সত্যিকারের বাচ্চা আছে। আমি কেন তাদের চিকিৎসা করবো।
    পাপের সন্তানকে আমি কেন ছোঁব? যার জন্ম হয়েছে দোজখে যাবার
    জন্যে তার জন্যে আমার কি দায়িত্ব?"


    দিনশেষে সবকিছু ছাপিয়ে একজন বাবা ও তার মেয়ের করুণ বিচ্ছেদের চিত্রই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ভালোবাসার সম্পর্ক যে বেশী মূল্যবান তাও বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই রচনায়।




    ----------o----------